আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি নিয়ে জলঘােলা, জমি ফেরত চেয়ে চিঠি রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের বংশধরদের

আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি (File Photo: IANS)

বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজার দান করা জমি ফেরত চেয়ে বসলেন তারই উত্তরসুরীরা। যা নিয়ে রীতিমতাে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষামহলে।

প্রসঙ্গত, রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ সিং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৯২৯ সালে প্রায় ৩.৪ একর জমি দান করে যান। তিনি মহমেডান অ্যাংলাে ওরিয়েন্টাল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৮৭৫ সালে ওই কলেজ স্থাপন করেন স্যার সৈয়দ আহমেদ খান। পরে ওই কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তিত করা হয়। নতুন নাম হয় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি । 

শিক্ষানুরাগী হিসেবে তৎকালীন ভারতে সুনাম ছিল রাজাসাহেবের। ১৮৭৮ সালে স্থাপিত এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ সিং। স্যার সৈয়দ আহমেদ খাঁর হাতে তৈরি এই কলেজটিকে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তিত করা হয়। 


এখন প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজার দেওয়া জমি ফেরত চেয়ে চিঠি দিলেন জাঠ রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের বংশধররা। এহেন চিঠি পেয়ে বিস্মিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের নির্দেশে ভাইস চ্যান্সেলর তারিক মনসুরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পুরাে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কাউন্সিলের বৈঠকে রিপাের্ট পেশ করবে। 

রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপের বংশধরদের দাবি, আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি’র ‘ত্রিকোনিয়া পার্ক’ ও ‘সিটি স্কুল’ গড়ে উঠেছে রাজার দেওয়া লিজের জমিতে। এ জন্য ৯০ বছরের জন্য লিজচুক্তি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। লিজের সময়সীমা পেরিয়েছে বহু আগেই। তাই ওই জমি ফেরত চেয়েছে রাজপরিবারের বর্তমান প্রজন্ম। তাঁদের আরও দাবি, সিটি স্কুলের নাম রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের নামে করা হােক। 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে দাবি উঠেছিল আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পেছনে রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের অবদান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম মহেন্দ্র প্রতাপের নামেই হােক। সেই সময় এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয় দেশজুড়ে। ফের আরও একবার বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।