বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চলতে থাকা নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেস কর্মসমিতির বৈঠকে এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলা গোটা উপমহাদেশের জন্যই চিন্তার বিষয়। এই ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা করে খাড়গে বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদের আগুনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে, যা ভারতের পক্ষেও উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন কংগ্রেস সভাপতি। বড়দিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি ও আরএসএসকে কাঠগড়ায় তোলেন। খাড়গের অভিযোগ, ‘গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যেভাবে হামলা চলছে তাতে গোটা দেশকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আমি নিজেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি’।
তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশের ঘটনার পাশাপাশি দু’দিন আগে ক্রিসমাসের সময় দেশের বহু জায়গায় বিজেপি, আরএসএস ও তাদের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের লোকেরা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। সেই সব ঘটনা গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।’
এদিনের বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে সমর্থন করে খাড়গে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে চলতে থাকা এসআইআর এক গভীর উদ্বেগের বিষয়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খুন্ন করার এ এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। রাহুল গান্ধী তথ্য ও উদাহরণ-সহ বার বার ‘ভোট চুরি’র প্রমাণ পেশ করেছেন।’ খাড়গে আরও জানান, ‘বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বোঝাপড়ার কথা আজ গোটা দেশ জানে। ফলে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভোটারদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ না যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে খাড়গে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গত ১১ বছরে দেশ প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে ইডি, আয়কর, সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলির অপব্যবহার করা হয়েছে। বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার ন্যাশনাল হেরাল্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা আইনি লড়াই লড়ছি। জয় আমাদেরই হবে’।