কালেশ্বরম প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ কেসিআরকে কড়া আক্রমণ, ‘আর্থিক সন্ত্রাসী’ বললেন রেবন্ত রেড্ডি

Image: ANI

তেলেঙ্গানার কালেশ্বরম লিফট ইরিগেশন প্রকল্পকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও, তাঁর ছেলে কেটি রামা রাও এবং বিআরএস নেতা টি হরিশ রাওকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। আঁদের আর্থিক সন্ত্রাসী বলে উল্লেথে করে রেড্ডির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু সরকারি অর্থের উপচয়ই হয়নি, তেলেঙ্গানার অর্থনীতির ভিতও দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সেচ প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠআনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেবন্ত রেড্ডি বলেন, বিআরএস সরকারের আমলে রাজ্যের ওপর ৮.২১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে প্রাণহিতা-চেভেলা প্রকল্পের জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই প্রকল্পের নকশা বদলে কালেশ্বরম প্রকল্প তৈরি করা হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, বিআরএস সরকারের সময়ে ঠিকাদারদের ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়েছিল।

রেবন্তের দাবি, কালেশ্বরম প্রকল্পের কাঠামোগত সমস্যার কথা বিআরএস সরকারের আমলেই সামনে আসে। তাঁর কথায়, ‘এটাই প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদ শুধু বন্দুক বা বোমার সাহায্যে হয় না। রাজ্যের অর্থনীতি ধ্বংস করেও সন্ত্রাস চালানো যায়। কেসিআর, কেটিআর এবং হরিশ রাও সেই আর্থিক সন্ত্রাসের জন্য দায়ী।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় বাঁধ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা এনডিএসএ-এর প্রাথমিক তদন্তেও বাঁধের ক্ষতির জন্য নিম্নমানের নির্মাণ, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত মান মেনে না চলার মতো বিষয়গুলি উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, এই সব গাফিলতির কারণেই প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কালেশ্বরম প্রকল্পকে অবহেলা করছে বলে যে অভিযোগ বিআরএস তুলেছে তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন রেবন্ত রেড্ডি। বরং তিনি কেসিআরকে প্রকাশ্যে এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেসিআর চাইলে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করতে পারেন। সরকার এই বিষয়ে বিধানসভা ও বিধান পরিষদের যৌথ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভূপালপল্লী জেলায় গোদাবরী নদীর উপর নির্মিত কালেশ্বরম লিফট্ ইরিগেশন প্রকল্পটি বিআরএস সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছিল। বিশাল পাম্প, জলাধার ও সুড়ঙ্গের মাধ্যমে নদীর জল উঁচু এলাকায় পৌঁছে দিয়ে সেচ ও পানীয় জলের জলের ব্যবস্থা করাই ছিল এর লক্ষ্য। তবে প্রকল্পের একাধিক বাঁধে ফাটল ও ক্ষতি ধরা পড়ার পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ২০২৩-এর তেলেঙ্গানা বিধানসভা নির্বাচনেও এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। এবার সেই প্রসঙ্গেই ফের বিআরএসকে নিশানা করে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়াল কংগ্রেস সরকার।