রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলা খারিজ করে দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। বড় আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা। বিজেপির পক্ষ থেকে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, কর্ণাটকের পূর্বতন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘কাটমানির হার’ নিয়ে ভুয়ো তালিকা প্রচার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি সুনীল দত্ত যাদবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এই মামলা চালিয়ে যাওয়া আইন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে চলা কার্যক্রম বাতিল করা হল।
এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা কেশব প্রসাদ। অভিযোগে বলা হয়েছিল, কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতারা সংবাদপত্রে পূর্ণপাতার বিজ্ঞাপন দিয়ে তৎকালীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘৪০ শতাংশ কমিশন’ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনকে অভিযোগপত্রে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছিল।
বিজেপির অভিযোগে আরও বলা হয়েছিল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রচার চালানো হয়েছিল। এই বিজ্ঞাপন সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, রাহুল গান্ধী নিজে এই প্রচারে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি সামাজিক মাধ্যমে তা প্রচার করেছিলেন।
তবে আদালতে রাহুল গান্ধীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রাথমিক প্রমাণ বা নথি পেশ করতে পারেননি। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। আদালতও এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জানায়, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় কর্ণাটকের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের নামও জড়িয়েছিল। তাঁরা বিশেষ সাংসদ-বিধায়ক আদালতে হাজির হয়ে জামিনও নিয়েছিলেন। পরে শিবকুমার এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময় ‘৪০ শতাংশ কমিশন’ ইস্যু ছিল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান প্রচার অস্ত্র। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই রায় কংগ্রেসের কাছে বড় আইনি ও রাজনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে রাজনৈতিক প্রচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন করে সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানির মামলার ক্ষেত্রে পেশ করা প্রমাণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও স্পষ্টভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।