সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতে মামলাটি খারিজ হয়েছে বলে যে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে এবং তৃণমূলের আর্জি খারিজ হয়নি।
সিব্বল জানান, মামলার শুরুতে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। তখন তাঁরা বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করার বদলে সেটির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টও সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই সমর্থন করেছে এবং কমিশনকে নিজেদের বিজ্ঞপ্তি সঠিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট গণনার কাজে কাউন্টিং সুপারভাইজার ও কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করা যেতে পারে বলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল। এই বিষয়টিই আদালতের নজরে আনা হয়। এর আগে তৃণমূল হাইকোর্টে দাবি করেছিল যে ওই বিজ্ঞপ্তি ত্রুটিপূর্ণ এবং তা বাতিল করা উচিত। তবে হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরে সিব্বল বলেন,’১৩ এপ্রিল জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সূত্র থেকে কমিশনের কাছে খবর এসেছে— ভোট চলাকালীন বুথগুলিতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সেই কারণে কমিশন প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক নিয়োগ করবে।‘ কিন্তু সিব্বলের বক্তব্য, ওই একই বিজ্ঞপ্তিতে আবার এও বলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের উভয়ের প্রতিনিধিই নিয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে উভয় প্রতিনিধিই হবেন সরকারি কর্মী।
এ নিয়ে প্রথমে হাইকোর্টে যায় শাসকদল। সেখানে তাদের বক্তব্য ছিল প্রত্যেক বুথে ইতিমধ্যেই একজন করে ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি বলেই দাবি করে তৃণমূল। পাশাপাশি প্রত্যেক বুথে সব রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্ট এবং নির্বাচনী এজেন্ট থাকেন।
এ ছাড়া ‘পোলিং সুপারভাইজার’ও থাকেন। সিব্বলের বক্তব্য, ওই সময়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞপ্তিই সঠিক। সেই নির্দেশের পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। সিব্বল জানান, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাঁরা বিজ্ঞপ্তিটিকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। বিজ্ঞপ্তিটি যথাযথ ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাখ্যাও এদিন দেন তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করে যে আমরা শুরুতে বিজ্ঞপ্তিটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলাম এবং সেটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আমরা তখন স্পষ্ট জানিয়ে দিই যে আমরা এখন বিজ্ঞপ্তিটির যথাযথ বাস্তবায়নেরই দাবি জানাচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশই দিয়েছে— কমিশন যাতে নিজেদের বিজ্ঞপ্তি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এবং মূল ভাবনা অনুযায়ী চলে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের প্রতিনিধিকেই রাখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশটিই দিয়েছে।‘