কানপুরে চার দিন আগে একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেওয়া ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনার ঘটনায় অভিযুক্ত শিবম মিশ্রকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে কানপুর পুলিশ। দুর্ঘটনায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিবম মিশ্রকে একটি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কানপুরের ভিআইপি রোডে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি শিবমই চালাচ্ছিলেন। শিবম মিশ্র তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রর ছেলে এবং আর্য নগরের বাসিন্দা। এর আগে কে কে মিশ্র দাবি করেছিলেন, তাঁর ছেলে দিল্লিতে চিকিৎসাধীন।
সেন্ট্রাল কানপুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ‘আমরা খবর পাই যে শিবম মিশ্র কানপুরেই রয়েছেন। পাঁচটি দল গঠন করা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।’ ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন বিলাসবহুল গাড়িটি ঝুলা পার্ক ক্রসিংয়ের কাছে একটি অটোরিকশা ও একটি বুলেট মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মেরে একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলছিল।
গ্রেপ্তারের একদিন আগে শিবমের চালক মোহন দাবি করেছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মোহনের বক্তব্য, শিবম তাঁর পাশে বসেছিলেন এবং আচমকা খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর ওপর পড়ে যান। মোহন বলেন, ‘হঠাৎ তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করে এবং তিনি আমার ওপর পড়ে যান। দুর্ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। বাউন্সার আমাকে গাড়ি থেকে বের করে দেয়’।
শিবমের আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার যাদবও দাবি করেন, চালক মোহন একটি হলফনামার মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, শিবমকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন না।
যাদব আরও বলেন, আহত ব্যক্তি এবং মামলার বাদী ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আর কোনও আইনি পদক্ষেপ চান না। যাদব দাবি করেন, ‘ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, আর কোনও ব্যবস্থা চান না। তিনি নিজেই চালককে চিহ্নিত করেছেন’।
তবে কানপুর পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, তদন্তে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিবমই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাই প্রথমে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে তাঁর নাম যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে যখন শিবমের নাম উঠে এসেছে, তার অর্থ আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, চালক তিনিই ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই এফআইআরে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
কানপুর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ধারা ২৮১, ১২৫(ক), ১২৫(খ) এবং ৩২৪(৪)।