‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ কার্যকর হলে বিপুল সাশ্রয় ও জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা: দাবি জেপিসি চেয়ারপার্সনের

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতি কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করলেন জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি বা যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন তথা বিজেপি সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধরী। বুধবার গুজরাতের গান্ধীনগরে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু লোকসভা ও বিধানসভা নয়, এই কাঠামোর সঙ্গে পরবর্তী ধাপে পঞ্চায়েত ও পুরভোটকেও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ মেনে প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা হবে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে পঞ্চায়েত ও পুরসভার ভোট একই চক্রের মধ্যে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালুর প্রস্তাব ২০২৪-এর ডিসেম্বরে লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই জেপিসিতে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। মোট ৩৯ জন সদস্যের এই কমিটিতে লোকসভা ও রাজ্যসভার একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।


সরকারি পক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, বারবার নির্বাচন আয়োজনের ফলে প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি, উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। একযোগে নির্বাচন হলে এই সব সমস্যা কমে যেতে পারে বলেই দাবি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন সরকারি ও নীতি-সংক্রান্ত আলোচনায় নির্বাচনী ব্যয় ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হতে পারে এবং আঞ্চলিক ইস্যুগুলোর গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জেপিসির আলোচনায় এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।এখন জেপিসির চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।