জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল জম্মু–কাশ্মীর প্রশাসন। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগের অভিযোগে পাঁচ জন সরকারি কর্মীর চাকরি বাতিল করলেন রাজ্যের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ‘টেরর ইকোসিস্টেম’ ভাঙতেই এই সিদ্ধান্ত, যাতে সরকারি ব্যবস্থার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী প্রভাব সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।
বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মীর মধ্যে রয়েছেন— শিক্ষক মহম্মদ ইশফাক, ল্যাব টেকনিশিয়ান তারিক আহমদ রাহ, সহকারী লাইনম্যান বশির আহমদ মীর, বন দপ্তরের ফিল্ড ওয়ার্কার ফারুক আহমদ ভাট এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের চালক মহম্মদ ইউসুফ।
প্রশাসনিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্কুলশিক্ষা দপ্তরের শিক্ষক মহম্মদ ইশফাক পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখতেন। ২০২২ সালে ডোডায় এক পুলিশ আধিকারিককে খুনের ছক কষার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, শিক্ষকতার আড়ালে তিনি যুবকদের জঙ্গি সংগঠনে টানার চেষ্টা করতেন। এমনকি জেলবন্দি অবস্থাতেও তাঁর বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী ভাবধারা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী তারিক আহমদ রাহ-এর বিরুদ্ধে হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি এক শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে সীমান্ত পার করাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর জঙ্গি যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বশির আহমদ মীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কর্মী ছিলেন, তাঁর বাড়ি থেকেই দুই লস্কর জঙ্গিকে নিকেশ করে নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া, চলাচলের তথ্য দেওয়া ও রসদ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের মতে, সরকারি বেতনভোগী হয়েও শত্রু শক্তির হয়ে কাজ করা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক বিপদজনক।
এদিকে ফারুক আহমদ ভাট বন দপ্তরের কর্মী হলেও জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নাকা চেক এড়িয়ে জঙ্গিদের সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একইভাবে, চালক মহম্মদ ইউসুফের কাছ থেকে অস্ত্র, গ্রেনেড ও বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, তিনি পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে জঙ্গিদের জন্য অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করতেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারি ব্যবস্থার ভিতরে থেকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রকম আপস নয়— এই নীতিতেই এগোচ্ছে জম্মু–কাশ্মীর প্রশাসন।