সাইবার অপরাধ দমনে বড়সড় অভিযান চালিয়ে ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। উত্তর ছোটনাগপুর অঞ্চলের একাধিক জেলায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য মিলেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিরেক্টর জেনারেল সুনীল ভাস্করের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। একযোগে বিভিন্ন জেলায় হানা দিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।
এই অভিযানের মূল ভিত্তি ছিল পুলিশের ‘প্রতিবিম্ব’ নামের বিশেষ প্রয়োগমাধ্যম, যার মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর চিহ্নিত ও যাচাই করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্দেহভাজন নম্বর যাচাই করে মোট ১৫টি সাইবার অপরাধের মামলা রুজু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা নিজেদের সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলক ফোন করত। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক ও যন্ত্রনির্ভর অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত প্রতারণা, এককালীন গোপন সংকেতভিত্তিক জালিয়াতি এবং অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ মনে করছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন একটি সুসংগঠিত সাইবার জালিয়াতি চক্রের সদস্য, যারা বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় ছিল।
তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১৩২টি মোবাইল ফোন, ১৬৮টি সিম কার্ড, ৩১টি অর্থ উত্তোলন কার্ড, ৭টি ব্যাঙ্ক পাশবই, ৩টি চেক বই, ২৩টি নথিপত্র সংবলিত খাতা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বার্তা বিনিময়ের তথ্য। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ৪ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা নগদ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকজন অভিযুক্ত জাল নথি ব্যবহার করে বা অন্যের পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সিম কার্ড চালু করত। বাজেয়াপ্ত নথির মধ্যে রয়েছে ৩টি আধার কার্ড, ৮টি প্যান কার্ড, ১টি শ্রমিক পরিচয়পত্র, ১টি ভোটার পরিচয়পত্র এবং ১টি চালকের অনুমতিপত্র। এই চক্রের কাজে ব্যবহৃত ৩টি চারচাকা ও ৭টি দু’চাকা যানও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক করে পুলিশ জানিয়েছে, এককালীন গোপন সঙ্কেত, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য বা সন্দেহজনক লিঙ্ক কারও কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। পাশাপাশি কোনও সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় জানাতে বা সাইবার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।