ছোটখাটো অপরাধে আর জেল নয়, ‘জন বিশ্বাস বিল ২০২৬’-এ বড় বদল

প্রতীকী চিত্র

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের জন্য আর জেলের শাস্তি নয়। তার বদলে আর্থিক জরিমানার পথেই এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। ‘জন বিশ্বাস বিল ২০২৬’-এর মাধ্যমে এই বড় পরিবর্তনের কথা জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। নতুন এই আইনি সংশোধনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা ক্ষেত্রে নিয়ম সহজ করা এবং একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাও বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিলের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও প্রসাধনী সংক্রান্ত আইন, ফার্মাসি সংক্রান্ত আইন, খাদ্য সুরক্ষা আইন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্তি ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল ছোটখাটো প্রক্রিয়াগত ভুলের জন্য ফৌজদারি শাস্তি তুলে দিয়ে ধাপে ধাপে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা চালু করা। ফলে ব্যবসা বা পরিষেবা চালাতে সুবিধা হবে। তবে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে আগের মতোই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে ওষুধ ও প্রসাধনী সংক্রান্ত আইনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে জেলের বদলে জরিমানার বিধান আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ছোটখাটো ত্রুটির ক্ষেত্রে যাতে আদালতের দ্বারস্থ না হয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট বিচার প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে। ফার্মাসি সংক্রান্ত আইনেও জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে দায়বদ্ধতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।


অন্যদিকে, খাদ্য সুরক্ষা আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির ভারসাম্য বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়ম মানার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সহজতা বজায় থাকে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আইনেও এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে রোগীর নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলা না করে আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এই বিলের মাধ্যমে মোট ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনের ৭৮৪টি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১৭টি ধারায় ফৌজদারি শাস্তি তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে কেন্দ্রের মোদী সরকার।

এই পরিবর্তনকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একদিকে নিয়ম মানা সহজ করবে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত রাখবে।