কৃষি ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল জম্মু ও কাশ্মীর। কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলের সাতটি বিশেষ পণ্য ‘জিআই’ বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ২০টি পণ্য এই স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে রামবানের সুলাই মধু, ভাদরওয়ার রাজমা, উদমপুর-রামনগরের কালাড়ি, জম্মুর বাসমতী চাল, রামবানের আনারদানা, মুশকবুদজি চাল এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কাশ্মীরের জাফরান। এই স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট পণ্যের স্বাতন্ত্র্য ও ভৌগোলিক উৎসকে আইনি সুরক্ষা দেয়।
আধিকারিকদের মতে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এই পণ্যগুলির নকল বা অপব্যবহার রোধ করা যাবে এবং বাজারে তাদের ব্র্যান্ড মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে স্থানীয় কৃষক এবং উৎপাদকদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জিআই স্বীকৃতি মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত পণ্যের জন্য দেওয়া হয়, যা সেই এলাকার জলবায়ু, মাটি এবং ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত। এটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের স্বকীয়তা নিশ্চিত করে এবং বিশ্ববাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জম্মু এবং শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কাশ্মীর মিলিয়ে মোট ১৬৪টি পেটেন্ট নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই স্বীকৃতি কৃষি খাতে বৌদ্ধিক সম্পত্তি সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করবে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিশ্ববাজারে আরও বড় জায়গা করে নিতে পারবে।