শুক্রবার রাত ৯.৪২ মিনিটে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প কেঁপে উঠল জম্মু ও কাশ্মীর। ভয়ে মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশ্মীর উপত্যকায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও জম্মু অঞ্চলেও কম-বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলা এবং প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটি আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত এলাকায় উৎপন্ন হয়েছিল। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল পৃথিবীর ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর স্থানাংক ছিল অক্ষাংশ ৩৬.২৯ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৭০.৮৭ ডিগ্রি পূর্ব।
প্রসঙ্গত, এমনিতেই কাশ্মীর উপত্যকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। অতীতে বহু প্রবল ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মুজাফফরাবাদ শহর ধ্বংস হয়ে যায়।
কাশ্মীরের ভূমিকম্প ইতিহাস বহু প্রাচীন। ১৫৫৫ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল। ১৮৮৫ সালের বারামুল্লায় ভূমিকম্পে ৭৫ হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়। সেই ঘটনায় ৩,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। ১৯০৫ সালে কঙ্গরা ভূমিকম্পের প্রভাব কাশ্মীরেও অনুভূত হয়।
কাশ্মীর উপত্যকা ভারতের হিমালয় সীমান্তের টেকটনিকভাবে সক্রিয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষত বালাপুর ফোল্টের মতো দুর্যোগপূর্ণ ফাটলের ক্রমাগত গতি এই অঞ্চলকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখে।