জল জীবন মিশন প্রকল্পে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ নিল তদন্তকারী সংস্থা। রাজস্থানের প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব তথা আইএএস আধিকারিক সুবোধ আগরওয়াল-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন শাখার বিশেষ তদন্তকারী দল এই মামলায় দিল্লি থেকে তাঁকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বেসরকারি ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এম/এস শ্রী গণপতি টিউবওয়েল কোম্পানি এবং এম/এস শ্রী শ্যাম টিউবওয়েল কোম্পানি ভুয়ো কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার শংসাপত্র জমা দিয়ে সরকারি টেন্ডার পায়। এই শংসাপত্রগুলি একটি সরকারি সংস্থার নামে জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকার চুক্তি আদায় করা হয়। সেই সময় সুবোধ আগরওয়াল দপ্তরের শীর্ষ পদে ছিলেন এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
বিশেষভাবে ‘সাইট ভিজিট সার্টিফিকেট’ বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলির পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়, যার ফলে কার্টেল গঠন সহজ হয়। এর ফলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দর অনুমোদন করা হয়, যা স্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মামলায় মোট টেন্ডারের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া তিনজন পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং তাঁদের ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পাঁচজন অভিযুক্ত আপাতত আদালতের কাছ থেকে গ্রেপ্তারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সুবোধ আগরওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার গভীরে পৌঁছাতে নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৃহৎ দুর্নীতির মামলায় কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।