‘ভারত-নেপাল সম্পর্ক বিশেষ’, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বার্তা জয়শঙ্করের

ভারত ও নেপাল দু’দেশই নিজেদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে আগ্রহী। আর সেই লক্ষ্যেই শনিবার নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। সেই বৈঠকে দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে।

বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে সহমত হয়েছে।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত ও নেপালের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’


তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুই দেশের সামনেই নিজেদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্টার্টআপ, এআই, তথ্যপ্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করা যেতে পারে।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>A pleasure to meet FM Shisir Khanal <a href=”https://x.com/hashtag/Nepal?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#Nepal</a> and his delegation today. <a href=”https://x.com/shisir?ref_src=twsrc%5Etfw”>@shisir</a> <br><br>A detailed discussion on our unique partnership, including on development cooperation, connectivity, energy, especially hydropower development, education, health, capacity building, digital, culture… <a href=”https://t.co/k42FIdOhvL”>pic.twitter.com/k42FIdOhvL</a></p>&mdash; Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) <a href=”https://x.com/DrSJaishankar/status/2063286649526853810?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 6, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্য, ভারত নেপালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁর কথায়, ‘আমরা পুরোনো কোনও বোঝা নিয়ে এগোতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হল ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা।’

বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের ইউপিআই এবং নেপালের ন্যাশনাল পেমেন্টস ইন্টারফেসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মানুষের জন্য অর্থ লেনদেন আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর ভারতের সহায়তায় নির্মিত ৭২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১২টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রকল্প নেপালের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন জয়শঙ্কর। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নিয়ে মন্তব্য করায় কিছুটা কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আবহের মধ্যেই এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই অনেকে মনে করছেন।