দেশের মহাকাশ গবেষণায় নতুন সাফল্য। ইতিহাস রচনা করে আজ শ্রীহরিকোটা থেকে সফলভাবে আকাশে উঠল ভারতের সর্বাধিক ভারী যোগাযোগ উপগ্রহ সিএমএস–০৩। ভোরের শান্ত আকাশ চিরে ইসরোর বাহিকাযান ‘বাহুবলী’ উপরে উঠতেই উৎক্ষেপণ কেন্দ্র জুড়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বহুদিনের প্রচেষ্টা আজ পূর্ণতা পেল এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা জানান, সিএমএস–০৩ উপগ্রহটি নৌসেনার কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে উদ্যোগী। সমুদ্রে টহল দেওয়া যুদ্ধজাহাজ, ডুবোযান, নৌ-বিমান, উপকূল সুরক্ষা ব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই এই উপগ্রহ দ্রুত, নিরাপদ ও গোপন সঙ্কেত আদান–প্রদান নিশ্চিত করবে। সমুদ্র সীমান্তে নজরদারি, বিপদ সংকেত গ্রহণ, উদ্ধারকাজ এবং জলদস্যু দমনেও এটি বড় ভূমিকা নেবে।
উৎক্ষেপণের আগে সারারাত ধরে বিজ্ঞানীরা বাহিকাযান ‘বাহুবলী’ ও উপগ্রহের সব অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নির্দিষ্ট সময়েই আকাশে ওঠে সিএমএস–০৩। উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, উপগ্রহটি নিজের কক্ষপথে স্থাপিত হলে ধাপে ধাপে নৌসেনার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় হবে।
প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই উপগ্রহ কার্যকর হলে দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা ও নজরদারিতে এক নতুন শক্তি যুক্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘সমুদ্র প্রতিরক্ষা–কৌশলে এটি ভারতের জন্য এক বড় অগ্রগতি।’
দেশের মহাকাশ অভিযানে আজ যে নতুন অধ্যায় যুক্ত হল, তা নিয়ে গর্বে উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা। শ্রীহরিকোটায় আজকের সাফল্য দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পথ আরও প্রশস্ত করল।