পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বাড়ল ইরান। ভারতীয় নাবিকদের দ্বারা চালিত একটি রাসায়নিকবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল ইরানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ওমানের শিনাস বন্দর সংলগ্ন এলাকায়।
কেন্দ্রের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, টোগো পতাকাবাহী ‘এম টি সিরন’ নামের ওই জাহাজে ভারতীয় নাবিকরা ছিলেন। ২৫ এপ্রিল জাহাজটি ওমান উপকূলের কাছে থাকা অবস্থায় ইরানের উপকূলরক্ষী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং সতর্কতামূলক গুলি চালায়। দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, ওই সময় জাহাজটি অন্যান্য জাহাজের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। হঠাৎ করেই ইরানের বাহিনী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে গুলি চালায়, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনার পরপরই ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিদেশ দপ্তর, ভারতীয় দূতাবাস এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। বহু ভারতীয় জাহাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির আপডেট নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২২ এপ্রিলও পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে ভারতগামী একটি জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর ভারত কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
১৮ এপ্রিল আরও দুটি ভারতীয় জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে, যেগুলি অনুমতি নিয়েই ওই পথ অতিক্রম করছিল। ইরানের দাবি ছিল, ওই জাহাজগুলি ‘অনুমতি ছাড়া’ চলাচল করছিল। এই ধারাবাহিক ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারত-সহ বহু দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে।