INS Kolkata Vs PNS Hunain: আরব সাগরে নাকাল PNS হুনাইন, কলকাতার দৈত্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়েই ডুবল পাকিস্তান

Navy warships navigating turbulent ocean waters (Pexels)

আরব সাগরে দুই যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ। যদিও এই দুই জাহাজের ওজন আর শক্তির ফারাক এতটাই বেশি যে, সংঘর্ষের ফলাফল আগে থেকেই বলে দেওয়া যেত। এক দিকে ভারতের কলকাতা-শ্রেণির (Kolkata-class) গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার (guided-missile destroyer) আইএনএস কলকাতা (INS Kolkata), যার ওজন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন। অন্য দিকে পাকিস্তানের একটি সাধারণ অফশোর পেট্রল ভেসেল (offshore patrol vessel) পিএনএস হুনাইন (PNS Hunain), ওজনে যেটি প্রায় ভারতীয় রণতরীটির তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। মোদ্দা কথা হল, পাল্লা দিতে গিয়ে একেবারে ভুল জাহাজ বেছে নিয়েছিল পাকিস্তান, এমনটাই অভিমত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। কেন এমন বলা হচ্ছে?

বলিহারি দুঃসাহস

পরিসংখ্যানেই একটা ব্যাপার স্পষ্ট, দুই জাহাজের ক্ষমতার কোনও তুলনাই চলে না। আইএনএস কলকাতার ওজন ৭,৪০০ টন। জাহাজটি লম্বায় প্রায় ১৬৪ মিটার। সেখানে পিএনএস হুনাইনের ওজন মোটে ২,৬০০ টন, লম্বায় ৯৮ মিটার। অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ বড় জাহাজের সঙ্গেই সংঘর্ষে জড়িয়েছিল পাকিস্তানের রণতরী। শুধু আকারে নয়, প্রযুক্তি আর অস্ত্রশস্ত্রে বিচারেও কোনও তুলনাই চলে না দুই জাহাজের মধ্যে।


আইএনএস কলকাতা তৈরি মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডকে (Mazagon Dock), ২০১৪ সালে এটি যুক্ত হয়েছিল নৌবাহিনীতে। এতে রয়েছে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos), বারাক-৮ বা এমআরএসএএম (Barak-8/MRSAM) আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, টর্পেডো লঞ্চার, শত্রু ডুবোজাহাজ খুঁজে বার করার সোনার প্রযুক্তি এবং সি কিং ও চেতক হেলিকপ্টার। ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজ পরিচিত ফ্লোটিং ফোর্ট্রেস (floating fortress) বা ভাসমান দুর্গ হিসেবেও।

আর পিএনএস হুনাইন তৈরি মূলত উপকূল পাহারা আর নজরদারির জন্য। ডাচ সংস্থা ডেমেনের (Damen Shipyards) নকশায় তৈরি এই ইয়ারমুক-শ্রেণির (Yarmook-class) জাহাজে থাকে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ৩০ মিলিমিটার কামান আর হালকা হেলিকপ্টার নামানোর ব্যবস্থা। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধক্ষমতায় তা আইএনএস কলকাতার ধারেকাছেও আসে না।

INS Kolkata Vs INS Hunain

ধাক্কার ফল

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে, ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে ঘটে এই সংঘর্ষ। ভারতের দাবি, আইএনএস কলকাতা তখন রুটিন নজরদারিতে ছিল। ভিএইচএফ চ্যানেল ১৬-তে (VHF Channel 16) বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পিএনএস হুনাইন হঠাৎ গতি বাড়িয়ে ভারতীয় জাহাজের সামনে দিয়ে পেরোনোর চেষ্টা করে। তাতেই দুই জাহাজের সংঘর্ষ ঘটে।

ফলাফল একেবারে স্পষ্ট। পাকিস্তানের জাহাজের সামনের অংশ দুমড়ে যায়, ফাটল ধরে হালেও। বাধ্য হয়ে তাকে ফিরে যেতে হয় বন্দরে, মেরামতির জন্য। অন্যদিকে আইএনএস কলকাতার কোনও কাঠামোগত ক্ষতিই হয়নি বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ভারতীয় জাহাজ নিজের অভিযান চালিয়ে গিয়েছে অক্ষত অবস্থায়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নিথন সরাসরি বলেছেন, আইএনএস কলকাতা যদি পাল্টা ঘুরে হুনাইনকে ধাক্কা মারত, তা হলে ছোট জাহাজটি ডুবেও যেতে পারত। তাঁর মতে,  পাকিস্তান খুবই বিপজ্জনক ঝুঁকি নিয়েছিল পাকিস্তান।

পরস্পরবিরোধী দাবি

ঘটনার ব্যাখ্যায় অবশ্য দুই দেশ একমত নয়। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে তাদের আর্থিক অঞ্চলে বা ইইজেড-এ (Exclusive Economic Zone, EEZ)। যেখানে চলছিল পাকিস্তানের দ্বিবার্ষিক নৌ-মহড়া সি-স্পার্ক ছাব্বিশ (SEASPARK-26)। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারতীয় জাহাজই আগ্রাসী কৌশল নিয়েছিল। ভারতের পাল্টা বক্তব্য, পাকিস্তান আগ্রামী মনোভাব দেখিয়েছে। তাদের এই আচরণ ভেঙেছে ১৯৯১ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দশম ধারা (Article 10), যা সেনা মহড়া নিয়ে আগাম তথ্য বিনিময়ের কথা বলে। ঘটনার জেরে দুই দেশই একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে (Charge d’Affaires) তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের দূতকে ডেকে পাঠায় ভারত, প্রায় একই সময়ে ইসলামাবাদেও তলব করা হয় ভারতীয় দূতকে।

কলকাতার নামেই যে জাহাজ

আইএনএস কলকাতার নামকরণ এই শহরের নামেই। ২০১৪ সালে মুম্বইয়ের নৌ ডকইয়ার্ডে একটি অনুষ্ঠানে জাহাজটিকে যুক্ত করা হয় ভারতীয় সেনার সুসজ্জিত মাহার রেজিমেন্টের (Mahar Regiment) সঙ্গেও। ২০২৪ সালে সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে বাণিজ্যতরী রুয়েন (Ruen) উদ্ধার করেও শিরোনামে এসেছিল এই জাহাজ। এবারের সংঘর্ষেও অক্ষত থেকে ফের একবার নিজের শক্তির প্রমাণ দিল কলকাতার নামাঙ্কিত এই রণতরী।