ইন্দোরে বিষ জলে মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন রাহুল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ইন্দোরে ভয়াবহ জলদূষণের ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত দশ জনের। দেশের পরিচ্ছন্নতম তকমা পাওয়া এই শহরের হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার মানুষ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে একরত্তি শিশুও। নলবাহিত জল পান করেই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন ভগীরথপুরা এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশ প্রশাসন, বিজেপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীও নিজের দলের সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘ইন্দোরে জল নয়, বিষ বিতরণ করা হয়েছে। অথচ প্রশাসন গভীর ঘুমে ছিল। প্রতিটি ঘর আজ শোকে আচ্ছন্ন, দরিদ্ররা অসহায়— আর বিজেপি নেতারা উদ্ধত বিবৃতি দিচ্ছেন। যাদের উনুন নিভে গিয়েছে, তাঁদের সান্ত্বনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার অহঙ্কার দেখিয়েছে।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মানুষ বারবার নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত জলের অভিযোগ জানিয়েছে। তবুও কেন সেই অভিযোগ শোনা হল না? পানীয় জলের সঙ্গে নর্দমার জল কীভাবে মিশে গেল? সময়মতো জল সরবরাহ বন্ধ করা হল না কেন? দায়ী কর্মকর্তা ও নেতাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?’ রাহুলের কটাক্ষ, ‘বিশুদ্ধ জল কোনও অনুগ্রহ নয়, এটা জীবনের মৌলিক অধিকার। আর যখনই গরিবরা মারা যায়, মোদী বরাবরই চুপ থাকেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগীরথপুরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নলবাহিত জলে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। জলের স্বাদও ছিল কটু। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের। হঠাৎ করেই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতালগুলিকে। এলাকার মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, এত বেশি কর দেওয়ার পরও সরকারি পরিষেবার কেন এমন বিপর্যয় ঘটল?


এই ঘটনায় বিজেপি সরকারকেই দায়ী করে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। মৃতদের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে উমা লেখেন, ‘২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে দূষিত জল পান করার কারণে ইন্দোরে সাধারণ মানুষের মৃত্যু আমাদের রাজ্য, আমাদের সরকার এবং সমগ্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে লজ্জিত করেছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘একটি জীবনের মূল্য কি মাত্র দু’লক্ষ টাকা? যার মৃত্যু হল, তাঁর পরিবার আজীবন শোকে ডুবে থাকবে।’

উমা ভারতী আরও বলেন, ‘রাজ্যের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর বাস্তবে এতটাই নোংরা ও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে যে, তার ভয়াবহ পরিণতিতে একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এই পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সমস্ত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। এটা মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের জন্য বড় পরীক্ষা।’ নিজের এই বার্তায় তিনি বিজেপির সরকারি হ্যান্ডেল এবং মুখ্যমন্ত্রীকেও ট্যাগ করেছেন।

এদিকে পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, এলাকার মূল জল সরবরাহের পাইপলাইনে একটি লিকেজ শনাক্ত করা হয়েছে। সেই ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের কাছেই সম্প্রতি একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, সেখান থেকেই নর্দমার জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, লিকেজ থাকলে আগেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কেন বিপদের আশঙ্কা জেনেও জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি?

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বিজেপির তরফে আগের কংগ্রেস সরকারের দিকে দায় ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে উমা ভারতীর কড়া প্রশ্ন, ‘যদি বর্তমান সরকারের কোনও দায় না থাকে, তবে পদে বসে কেন আপনারা বোতলজাত জল পান করছেন? পদ ছেড়ে জনতার সামনে সত্যটা বলার সাহস কেন দেখালেন না?’ তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, ‘এই পাপের কোনও সাফাই নেই। আছে শুধু প্রায়শ্চিত্ত আর দণ্ড।’

ইন্দোরের এই জলদূষণ কাণ্ড ঘিরে এখন গোটা রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।