বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল মানচিত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ মূলত পশ্চিম বিশ্বের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ন্যাটিক্সিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ত্রিন নগুয়েন। তাঁর মতে, উৎপাদন, পরিষেবা ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে ভারতের যে তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে, তা পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
এক সাম্প্রতিক আলোচনায় ত্রিন নগুয়েন বলেন, ‘ভারত এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তার শ্রমশক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাজারের বিস্তৃতি পশ্চিম বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই মিলে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ রয়েছে।
এই অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা, ওষুধ শিল্প এবং উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রেই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ক্ষেত্রগুলিতে পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলির বিনিয়োগ ও বাজারের চাহিদা ভারতের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একাধিক দেশ বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে, যার ফলে ভারত স্বাভাবিক ভাবেই আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
ত্রিন নগুয়েন আরও জানান, ভারতের জনসংখ্যাগত গঠনও একটি বড় সুবিধা। তুলনামূলকভাবে তরুণ শ্রমশক্তি ও ক্রমবর্ধমান দক্ষতা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ জরুরি বলে তিনি মত দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ভারতের উচিত নিজস্ব নীতিগত সংস্কারকে আরও গভীর করা। তাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, ন্যাটিক্সিস অর্থনীতিবিদের বক্তব্য নতুন করে ইঙ্গিত দিচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন অধ্যায়ে ভারতের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারিত হতে চলেছে তার তুলনামূলক সুবিধা ও পশ্চিম বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার উপর ভর করেই।