ভারতের ‘নির্ণায়ক মুহূর্ত’, আইসিসি সামিটে বললেন গ্লোবাল অ্যাডভাইজর অজয় বিসারিয়া

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার অব্যাহত রেখেছে ভারত। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ৬.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির হার, তাকে দ্রুততার সঙ্গে বড়মাপের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। আইসিসি ও ওয়েলথ্ ম্যানেজমেন্ট সামিট-২০২৫-এ অংশ নিতে এসে একথা বলেছেন প্রাক্তন কূটনীতিক এবং গ্লোবাল অ্যাডভাইসর অজয় বিসারিয়া। তিনি বলেন, ভারতের এখন এক ‘নির্ণায়ক মুহূর্ত’। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বড় আকারের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিসোরিয়া বলেন, জিএসটি, ইউপিআই, জ্যাম ট্রিনিটি, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সংস্কার এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে পারে।

বিসোরিয়া আরও বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক উন্নত ক্ষেত্রে পৌঁছেছে—যেখানে আমেরিকা, চিন, ইউরোপ, রাশিয়া, জাপান ও গ্লোবাল সাউথ–এর সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের অর্থনীতিতে আমেরিকার প্রভাবের কারণে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ভারতের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ও চিনের পদক্ষেপ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি–নির্ভর উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি ঘটলেও মাথাপিছু আয় মাত্র ৩ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে জিডিপির অংশীদারিত্ব মাত্র ১৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর পরিস্থিতি বদলেছে। শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও বিধিনিষেধ এখন কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাণিজ্য আলোচনার স্থবিরতা, রাশিয়ার তেল এবং পাকিস্তান–সংক্রান্ত মার্কিন নীতিতে মতপার্থক্যের কারণে কিছু টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।


২০২৫-এর দিকে তাকিয়ে বিসারিয়া ভারতের বৃদ্ধি চলতি ও আগামী অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। যদিও ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

আইসিসি সভাপতি ব্রীজ ভূষণ আগরওয়াল বলেন, প্রযুক্তি, সমন্বয় ও বিনিয়োগকারী- এই তিন কারণে ভারতের সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসছে। আইসিসি ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিং বলেন, প্রযুক্তি–নির্ভর সমাধান আর্থিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে এবং বিশ্বের অনিশ্চয়তার মোকাবিলা করতে এই প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে।