দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কয়লা উৎপাদনে বড় সাফল্যের দাবি কেন্দ্রের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কয়লা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক কয়লা খনি মিলিয়ে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৪৯ মিলিয়ন টনে। একই সঙ্গে কয়লা সরবরাহ বা ডিসপ্যাচের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে মোট ১৭.৭২ মিলিয়ন টন কয়লা সরবরাহ করা হয়েছে, যা উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প ক্ষেত্রে জ্বালানির চাহিদা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিক কয়লা উৎপাদন বছরে বছরে ১১.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কয়লা সরবরাহেও ৬.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট যে কয়লা খনন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে।
কয়লা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারের সংস্কার নীতি, নিয়মিত নজরদারি এবং খনি খাতের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে দেওয়া ধারাবাহিক সহায়তা। দ্রুত অনুমোদন, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খনি ব্যবস্থাপনায় উন্নত সমন্বয় এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও স্থিতিশীল উৎপাদন বজায় রাখা, সরবরাহে কোনও বাধা না হওয়া এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে কয়লা খাতকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কয়লা খাতে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কয়লা ব্লক বরাদ্দের ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে বেসরকারি সংস্থাগুলিও এখন বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উৎপাদন ও বিক্রিতে অংশ নিতে পারছে। এই পদক্ষেপ দেশের কয়লা উৎপাদন বাড়াতে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।