ইস্তফা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাসের সামনে ধর্নায় রাহুল, রণক্ষেত্র রাজধানীর রাজপথ

দিল্লিতে আটক রাহুল গান্ধী (ANI)

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে দিল্লির রাজপথ এখন আগ্নেয়গিরির মুখ! সোমবারের অভূতপূর্ব সংঘর্ষ ও অশান্তির পর মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানীর বুক। একদিকে যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar) ব্যারিকেড ভেঙে ফের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর জমায়েত, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের (7 Lok Kalyan Marg) সামনে খোদ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেদের রাজপথ অবরুদ্ধ করে ধর্ণা! পরিস্থিতি সামলাতে নামাতে হলো র‍্যাফ (RAF)।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party – CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ (Chalo Sansad) অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজপথের এই উত্তাপ সোজা গিয়ে কড়া নাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের দরজায়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency – NTA) বাতিলের দাবিতে অনড় ছাত্রসমাজ।

মোদীর বাড়ির সামনে রাহুল


মঙ্গলবারের সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে। সোমবার আহত ছাত্রদের রাম মনোহর লোহিয়া (RML Hospital) হাসপাতালে দেখে সোজা ৭, লোক কল্যাণ মার্গে পৌঁছে যান রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে। নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর দরজার সামনে মাটিতে বসেই শুরু হয় ধর্না।

রাহুল গান্ধীর স্পষ্ট হুঙ্কার, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাশাপাশি ছাত্রদের ওপর যে পুলিশি বর্বরতা হয়েছে, তার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে’। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমঝোতার চেষ্টা করলেও রাহুল তা নাকচ করে দেন। বিকেলের দিকে দিল্লি পুলিশ কানহাইয়া কুমার-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে।

যন্তরমন্তরে সংঘর্ষে ৫ FIR

সোম ও মঙ্গলবারের সংঘর্ষে মধ্য দিল্লি যেন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ব্যারিকেড ভাঙা ও পাথর ছোঁড়ার পরেই তাঁরা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালাতে বাধ্য হন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ কর্মী এবং অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। কনৌট প্লেস থানা-সহ বিভিন্ন থানায় ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) পাল্টা তোপ দেগে জানান, তাঁবু উপড়ে ফেললেও বা আমাদের ওপর লাঠি চালালেও আন্দোলন থামবে না। এর মধ্যেই সংগঠনের মুখাপাত্র বিজেতা দাহিয়াকে (Vijeta Dahiya) দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য সরিয়ে দিয়েছে সিজেপি।

ওয়াংচুকের স্বস্তি

এদিকে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তিনি নাছোড়বান্দা। সফদরজং হাসপাতালে (Safdarjung Hospital) স্যালাইন নিতে অস্বীকার করেন তিনি।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দমতো দিল্লির মেদান্ত হাসপাতালে (Medanta Hospital) স্থানান্তরিত করার অনুমতি দিয়েছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমোর আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই দ্রুত নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

একজোট বিরোধী শিবির

যন্তরমন্তরে ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে মঙ্গলবার হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) এবং শরদ পওয়ার (Sharad Pawar)। কেজরিওয়াল চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, দেশের তরুণদের কথা না শুনে লাঠি দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে মোদী সরকার। একই সুরে তোপ দেগেছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, আপ নেত্রী অতসী এবং সিপিআইএমের বৃন্দা কারাতও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনিও ছাদ্রদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি যাবেন।

অন্যদিকে, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা (J.P. Nadda)। তিনি রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি আহত ছাত্রদের দেখতে যান এবং সিজেপি-র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা না দিলে রাজপথ ছাড়বে না দেশের ‘ককরোচ’ জনতা!