স্টেশনের পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ও ফিল্টার পরিষ্কার করতে বিশেষ অভিযান রেলের

Photo: স্টেশনের পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ও ফিল্টার পরিষ্কার (AI)

যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার পানীয় জল নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ স্বচ্ছতা অভিযান শুরু করল ভারতীয় রেল। এই অভিযানে স্টেশনের পানীয় জলের ট্যাঙ্ক, ফিল্টার, পাইপলাইন, জল ঠান্ডা ও পরিশোধনের যন্ত্র এবং জল দেওয়ার জায়গাগুলি খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত মেরামত বা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেল বোর্ডের নির্দেশে প্রতিটি জোনের পানীয় জলের ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। জলের উৎস, পরিশোধন ব্যবস্থা, প্লাস্টিকের ট্যাঙ্ক, জলের বুথ এবং কল পরীক্ষা করা হবে। পানীয় জলের ট্যাঙ্কগুলি খালি করে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করা হবে। ট্যাঙ্কের ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ রয়েছে কি না, পাখি-পশু বা শ্যাওলার কারণে জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তাও দেখা হবে।

অভিযানে নষ্ট হয়ে যাওয়া ট্যাঙ্ক, পাইপ বা ফিল্টার পাওয়া গেলে তা মেরামত বা বদলে ফেলা হবে। পানীয় জলের পাইপের সঙ্গে অন্য জলের পাইপের কোনও ভুল সংযোগ রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। কোথাও পাইপে জল চুঁইয়ে পড়লে দ্রুত তা মেরামত করে জলের অপচয় বন্ধ করা হবে। হাতপাম্প ও নলকূপ থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হয় এমন জায়গাতেও বিশেষ নজর থাকবে। সেই জল দূষিত কি না, তা পরীক্ষা করে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করা হবে।


স্টেশনের জল ঠান্ডা করার যন্ত্র এবং জল পরিশোধন ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, ইউভি ও আরও-ভিত্তিক পরিশোধন ব্যবস্থাতেও বদল আনা হবে। ফিল্টারের বিভিন্ন অংশ নির্দিষ্ট সময় পরিষ্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও বদল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জলের গুণমান যাচাই করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে ব্যাহত বিমান পরিষেবা, ঘুরপথে যাত্রা ১৫ বিমানের

প্রতিদিন জলে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ক্লোরিন রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া পুরনো ট্যাঙ্ক বদলানো বা নতুন ট্যাঙ্ক তৈরির যে কাজগুলি ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেগুলি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনকে স্টেশনভিত্তিক কোথায় কী সমস্যা পাওয়া গিয়েছে এবং তা সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই তথ্য জানাতে হবে। শুধু স্টেশন নয়, রেলের আবাসন ও বিভিন্ন কর্মস্থলেও পানীয় জলের ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। যাত্রী এবং রেলকর্মী, দু’পক্ষের জন্যই নিরাপদ ও পরিষ্কার পানীয় জল নিশ্চিত করাই এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য।