লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয়তে ভারতীয় নৌসেনার নতুন ঘাঁটি ‘আইএনএস জটায়ু’ 

মিনিকয়, ৭ মার্চ –  ভারত মহাসাগরে নজরদারি জোরদার করতে লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয়তে ‘আইএনএস জটায়ু’ নামে নতুন ঘাঁটি তৈরী করল  ভারতীয় নৌসেনা  । সমুদ্রে চিনের গতিবিধির উপর নজর রাখতেই এই পদক্ষেপ করেছে নয়াদিল্লি, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার মিনিকয়তে এই নতুন নৌসেনা ঘাঁটির উদ্বোধন করা হয়। এটি পরিচালনা করবেন কমান্ডার ব্রত বাঘেল। 

কয়েকমাস ধরেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গেছে। তাই আগে থেকেই সতর্ক প্রশাসন। ভারত মহাসাগরে নজরদারি আরও জোরদার করতে এই ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। নৌসেনা প্রধান আর হরিকুমার জানিয়েছেন, “রামায়ণে জটায়ু প্রথম সীতাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জীবনের কথা ভাবেননি। তাঁর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের জন্যই নৌঘাঁটির নামকরণ হয়েছে ‘জটায়ু’। যার অর্থ হল নিরাপত্তা, নজরদারি এবং নিঃস্বার্থ সেবা।” হরিকুমার আরও বলেন, ‘ভারত মহাসাগর বহু সন্ত্রাস, অপরাধ ও জলদস্যুদের আক্রমণের সাক্ষী থেকেছে। ভারতীয় নৌসেনা সব সময় সমস্ত অপরাধের কড়া জবাব দিয়েছে। আরব সাগরে ড্রোন, মিসাইল হামলা ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে নৌসেনার রণতরী। বাণিজ্যপথের নিরাপত্তায় সর্বদা নজর রেখেছে।”

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌসেনা প্রধান আর হরিকুমার, লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল প্যাটেল। সাউদার্ন নেভাল কমান্ডের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ভি শ্রীনিবাস এবং ওয়েস্টটার্ন নৌ কমান্ডের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় জে সিং-সহ  উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর আগে লাক্ষাদ্বীপের কাভারাত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল নৌসেনা ঘাঁটি ‘আইএনএস দ্বীপরক্ষক’। ‘আইএনএস জটায়ু’ দ্বীপপুঞ্জটিতে নির্মিত দ্বিতীয় নৌসেনা ঘাঁটি। 


কয়েকদিন আগেই ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে মলদ্বীপে প্রবেশ করেছে চিনা ‘নজরদারি’ জাহাজ শিয়াং ইয়াং হং-৩। ভারত মহাসাগরে গবেষণার নামে ‘গুপ্তচর’ মোতায়েন করছে বেজিং, একাধিকবার অভিযোগ করেছে দিল্লি। এর আগে  শ্রীলঙ্কাতেও নোঙর করতে চেয়েছিল কমিউনিস্ট দেশটির জাহাজ। কিন্তু ভারতের অনুরোধে সেটিকে হাম্বানটোটা বন্দরে ভিড়তে দেয়নি কলম্বো। সাগরে চীনের এই ঘন ঘন  আনাগোনা এখন দিল্লির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । চিনের গতিবিধি নজরে রাখতেই এই ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।