হরমুজ পেরিয়ে নির্বিঘ্নে মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছল এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’

পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে নিরাপদে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছল ভারতের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক। সোমবার সন্ধ্যায় এই জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে বলে কেন্দ্রীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জাহাজে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ছিল।

কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ দপ্তরের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা এক আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে জানান, শিবালিক নামের জাহাজটি কাতার থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে সেটি সফলভাবে খোলা সমুদ্রে পৌঁছয়। পরে মুন্দ্রা বন্দরে এসে নোঙর করে। তিনি আরও জানান, ভারতের পতাকাবাহী দুটি এলপিজি জাহাজ— শিবালিক এবং নন্দা দেবী— মোট প্রায় ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে দেশে আসছিল। দুটি জাহাজই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারতীয় জাহাজ পরিবহণ নিগমের মালিকানাধীন।

প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের এই এলপিজি ট্যাঙ্কারের নিরাপদে পৌঁছনোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।


প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ শিবালিক মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছয়। অন্য জাহাজ নন্দা দেবী মঙ্গলবার ভোরের দিকে গুজরাতের কান্ডলা বন্দরে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাজেশ কুমার সিনহা আরও জানান, পারস্য উপসাগর এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সকলেই নিরাপদে আছেন। তাঁদের সঙ্গে কোনও অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে ভারতের পতাকাবাহী মোট ২২টি জাহাজ রয়েছে। এই জাহাজগুলিতে মোট ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে প্রায় ৮১ হাজার টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আরেকটি জাহাজ ভারতের দিকে আসছে। সেটি মুন্দ্রা বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছে। জাহাজে থাকা সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। তাই এই পথের পরিস্থিতির উপর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বড় প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রীয় দপ্তর জানিয়েছে, দেশের বড় বড় বন্দরগুলো জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহণের উপর কড়া নজর রাখছে। প্রয়োজনে নোঙর, জেটি ব্যবহার এবং গুদাম ভাড়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারে।