পোরবন্দরে ইরানের নাবিকদের জেরা করে কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট বাজেয়াপ্ত

বড় ধরনের চোরাচালান চক্রের হদিশ মিলল পোরবন্দরের নিকটবর্তী সমুদ্রে। সন্দেহজনক একটি নৌকা আটক করে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট বাজেয়াপ্ত করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। নৌকাটিতে থাকা নাবিকরা ইরানের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় চোরাচালান চক্রের আন্তর্জাতিক যোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উপকূলরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত টহলের সময় আরব সাগর এলাকায় একটি সন্দেহজনক নৌকা চিহ্নিত করা হয়। নৌকাটির গতিবিধি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ঘিরে ফেলে উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ। পরে নৌকাটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার হয়। এই অভিযানে বড় ধরনের পাচারচক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় নিরাপত্তা মহলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এই সিগারেটগুলি অবৈধভাবে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নৌকায় থাকা ইরানি নাবিকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘নৌকাটির কোনও বৈধ নথি বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এটি চোরাচালানের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।’ নৌকাটিকে নিরাপত্তার জন্য উপকূলবর্তী ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের যোগ থাকতে পারে। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট দেশের জলসীমায় প্রবেশ করল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে চোরাচালানের ঘটনা বেড়েছে বলে নিরাপত্তা বিভাগ সূত্রের খবর। বিশেষ করে বিদেশি সিগারেট, মাদক এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের জন্য আন্তর্জাতিক চক্রগুলি নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলরক্ষী বাহিনী নজরদারি আরও জোরদার করেছে।