চন্দ্রযান-৩ থেকে আদিত্য-এল১, মহাকাশ অভিযানে দেশীয় চিপের ব্যবহার বাড়াচ্ছে ভারত

ছবি: এএনআই

মহাকাশ গবেষণায় শুধু রকেট বা উপগ্রহ তৈরি নয়, তার ভিতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও চিপ তৈরিতেও ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে ভারত। চন্দ্রযান-৩ থেকে শুরু করে সূর্যকে নিয়ে গবেষণার অভিযান আদিত্য-এল১— ভারতের একাধিক মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশে তৈরি বিশেষ চিপ। জাতীয় মহাকাশ দিবসে সামনে এসেছে মহাকাশ গবেষণায় দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
মহাকাশে ব্যবহারের জন্য তৈরি চিপ সাধারণ চিপের মতো নয়। মহাকাশে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও গরম, তীব্র বিকিরণ, চাপ, কম্পন এবং অন্যান্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিপকে নির্ভরযোগ্য ভাবে কাজ করতে হয়। সেই কারণেই মহাকাশযান ও উৎক্ষেপণযানের জন্য বিশেষ ধরনের চিপ তৈরি করা হয়।
মোহালির সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি বা এসসিএল এই ধরনের মহাকাশ-উপযোগী চিপ তৈরির কাজ করছে। তাদের তৈরি চিপের মধ্যে রয়েছে বিকিরণ প্রতিরোধী চিপ, চাপ, তাপমাত্রা ও ত্বরণ মাপার সেন্সর, শব্দ মাপার সেন্সর, ক্যামেরার জন্য ইমেজার এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি বিশেষ চিপ।
চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডারেও ব্যবহার করা হয়েছিল এসসিএল, মোহালিতে তৈরি ক্যামেরার চিপ। ল্যান্ডারের ছবি তোলার ব্যবস্থায় এই চিপ ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ চাঁদের মাটিতে সফল ভাবে নামার অভিযানের সঙ্গে দেশের তৈরি সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিও যুক্ত ছিল।
এ ছাড়াও এসসিএলের তৈরি ‘বিক্রম’ প্রসেসর উপগ্রহ উৎক্ষেপণযান এবং রকেটে ব্যবহার করা হচ্ছে। সূর্যকে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য পাঠানো আদিত্য-এল১ মহাকাশযানেও রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তি। সেখানে এসসিএলের তৈরি বিকিরণ প্রতিরোধী এডিসি চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।
মহাকাশ অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি দেশে তৈরি হলে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বড় ও জটিল মহাকাশ অভিযান পরিচালনার জন্য দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়ে। চাঁদ থেকে সূর্য— ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে দেশীয় চিপের ব্যবহার সেই আত্মনির্ভরতারই গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।