মানববিহীন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ভারত

ছবি: এএনআই

ভবিষ্যৎ যুদ্ধব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় সেনা। মানববিহীন যুদ্ধের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা ও কার্যকর শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী দিনে ১৫ থেকে ২০টি ‘শক্তিবাণ’ রেজিমেন্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেনা সূত্রের খবর, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, আঘাত হানা এবং তথ্য সংগ্রহ— এই তিনটি ক্ষেত্রেই মানববিহীন উড়ানযন্ত্রের ব্যবহার আরও ব্যাপক করা হবে।

সেনা আধিকারিকদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সীমান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবলমাত্র প্রচলিত অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, শত্রুপক্ষের গতিবিধি নিরীক্ষণ এবং ঝুঁকি কমিয়ে নির্ভুল আঘাত হানার জন্য মানববিহীন প্রযুক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই প্রয়োজন মেটাতেই ‘শক্তিবাণ রেজিমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই রেজিমেন্টগুলিতে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষম মানববিহীন উড়ানযন্ত্র এবং রিয়েল টাইম তথ্য বিশ্লেষণের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন এই ইউনিটগুলি শত্রুপক্ষের গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। সেনা সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থার ফলে সেনা জওয়ানদের সরাসরি বিপজ্জনক এলাকায় পাঠানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।


প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শক্তিবাণ রেজিমেন্ট’ গঠনের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে তথ্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র, সেখানে এই রেজিমেন্টগুলি সেনার কৌশলগত ক্ষমতাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও উৎসাহ দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেনা সূত্রের দাবি, এই উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষভাবে নির্বাচিত সেনাকর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা যায়। সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলা— সব ক্ষেত্রেই এই রেজিমেন্টগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, শক্তিবাণ রেজিমেন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত ভারতীয় সেনার আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করবে। ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে দেশের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে মত প্রতিরক্ষা মহলের।