কিশ্তওয়ারে জঙ্গি হামলায় শহিদ বিশেষ কমান্ডো, শেষ শ্রদ্ধায় সেনা ও পুলিশ

ছবি: এসএনএস

জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হলেন ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো গজেন্দ্র সিংহ। রবিবার গভীর রাতে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে গুরুতর জখম হন তিনি। সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যু হয় তাঁর। মঙ্গলবার সকালে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সতীর্থরা শহিদ জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এই শ্রদ্ধানুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন হোয়াইট নাইট কোরের ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ ব্রিগেডিয়ার যুধবীর সিংহ সেখন। উপস্থিত ছিলেন জম্মু–কাঠুয়া–সাম্বা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ শিবকুমার শর্মা, জম্মুর ডেপুটি কমিশনার রাকেশ মিনহাস-সহ পুলিশ, সিআরপিএফ ও বিএসএফ-এর একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্তা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহিদ জওয়ানের মরদেহ উত্তরাখণ্ডে তাঁর পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।

এদিকে কিশ্তওয়ারের পার্বত্য জঙ্গলে চলা জঙ্গিদমন অভিযান মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে সন্দেহভাজন বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এই অভিযান শুরু হয়েছে রবিবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর মেলার পর। তথ্য অনুযায়ী, মান্দ্রাল–সিংপোরা এলাকার সোন্নার গ্রামের জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। সেই খবরের ভিত্তিতেই হোয়াইট নাইট কোর ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ শুরু করে।


রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির লড়াই চলে। জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডে আট জন জওয়ান জখম হন। ঘটনার পর দ্রুত সংঘর্ষস্থলে পৌঁছোন জম্মু জোন পুলিশের আইজি ভীমসেন টুটি ও জম্মু সিআরপিএফ-এর আইজি গোপালকৃষ্ণ রাও-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। অভিযানের তদারকিতে তাঁরা সেখানেই ক্যাম্প করে রয়েছেন।

নিরাপত্তাবাহিনী জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানা থেকে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বাসনপত্র ও শীতবস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা উপত্যকার শীতে অন্তত চার জনের দীর্ঘ সময়ের রসদ বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে কারা এই রসদ জুগিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করেছে বাহিনী।