বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের মর্যাদা অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে ভারত। আগামী ২ বছরের মধ্যে মেট্রো নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্যে আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর ইন্দোরে সম্প্রসারিত মেট্রো পরিষেবার উদ্বোধনের পর এই সম্ভাবনার কথা জানান।
বর্তমানে ভারতের ২৬টি শহরে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক চালু রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকার মোট মেট্রো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৮৬ কিলোমিটার। অর্থাৎ, ব্যবধান মাত্র ২১৬ কিলোমিটার। মন্ত্রকের দাবি, নির্মাণাধীন এবং উন্নত পরিকল্পনামাফিক প্রায় ৯০০ কিলোমিটার মেট্রো প্রকল্পের মধ্যে একটি অংশও দ্রুত চালু হলে ভারত আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কের দেশ হয়ে উঠতে পারে। এই তালিকায় বর্তমানে প্রথম স্থানে রয়েছে চিন।
২০১৪ সালে ভারতে মাত্র ৫টি শহরে ২৪৫ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক চালু ছিল। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে সেই নেটওয়ার্ক প্রায় ৫ গুণ বেড়ে ১,১৭০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন শহরে মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারণকে নগর পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ইন্দোরে মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারণের ফলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি এসেছে।
গান্ধীনগর থেকে মালব্যনগর চৌরাহা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করিডর চালু হওয়ায় ইন্দোর মেট্রোর দৈর্ঘ্য ৬.৩ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ১৭.৫ কিলোমিটার হয়েছে। এই নতুন অংশটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং প্রধান সড়ক সংযোগগুলিকে যুক্ত করবে। প্রায় ১৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চলাচল করবে।
আরও পড়ুন: হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত, মার্কিন জাহাজে হামলার পর অন্য দেশগুলিকে সতর্কবার্তা ইরানের
কেন্দ্রের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেট্রো সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যানজট কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও শহরের কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। ভারতের দ্রুত মেট্রো সম্প্রসারণ এখন আর শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, দেশের ক্রমবর্ধমান শহরগুলির রূপান্তরেরও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।