ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ঘোষিত নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা করার পর থেকেই বিরোধীরা কেন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইছে, এই চুক্তিতে ভারতের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এবং দেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দুর্বল হয়েছে কি না।

বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ বেড়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ভারত নাকি আমেরিকার বহু পণ্যের উপর প্রায় শূন্য শুল্ক আরোপ করতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা ভারতীয় রপ্তানির উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখছে।

বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এই চুক্তিকে ‘ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তে দেশের তুলো চাষি এবং বস্ত্র শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে তুলো আমদানি করতে হলে দেশের কৃষকরা সমস্যায় পড়বেন। আর আমদানি না করলে বস্ত্র শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর অভিযোগ করেছেন, পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিলে তা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াবে।


তবে এই অভিযোগ খারিজ করেছে কেন্দ্র। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতেই জ্বালানি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আমাদের ইতিহাস ও নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তা বজায় থাকবে।’ বিজেপি নেতা অনিল বালুনি জানিয়েছেন, আমেরিকার কাছ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার বিষয়টি বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা মাত্র। তিনি আরও দাবি করেছেন, কৃষি ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কোনও আপস করবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ভারতের অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চুক্তির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।