আমেরিকার ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্প। সোমবার থেকেই সূচনা হল আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের। এই আবহে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠন ‘ইন্ডিয়াস্পোরা’। তাঁদের আশা, দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান এমআর রঙ্গস্বামী বলেন, ‘সংগঠনের তরফে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি৷ আমার আশা আমেরিকার এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত ও সমৃদ্ধ হবে৷’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ভারত ও আমেরিকার শীর্ষ কূটনীতিক ও রাজনীতিকরা৷ সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে৷ ভারতের সঙ্গে মজবুত দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলার ক্ষেত্রে আমেরিকার অবদানও কোনও অংশে কম নয়৷’
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে একাধিক ভারতীয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প৷ নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁদেরকে বসিয়েছেন আমেরিকার নয়া প্রেসিডেন্ট৷ ট্রাম্প সরকারে জায়গা করে নিয়েছেন হারমিত কউর ধিলোঁ, বিবেক রামস্বামী, কাশ প্যাটেল, জয় ভট্টাচার্য এবং শ্রীরাম কৃষ্ণনের মতো ব্যক্তিত্বরা৷
‘ইন্ডিয়াস্পোরা’-এর এক্সেকিটিভ ডিরেক্টর সঞ্জীব যোশীপুরা বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে৷ প্রথমত, ভেদাভেদ দূরে সরিয়ে আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের নাগরিক হিসেবে ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়ানো৷ দ্বিতীয়ত, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও মজবুত করা৷’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষে ভারতীয়দের নির্বাচিত করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই ধারা বজায় রেখেছেন৷ ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে প্রস্তুত আমাদের সংগঠন৷ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব৷’
প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাঁর প্রথম মেয়াদকালে ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও সাক্ষর করতে দেখা যায় তাঁকে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরের সময়ে ট্রাম্প আয়োজিত ‘হাউডি মোদি’ নিয়ে আজও চর্চা করা হয় ৷ সুতরাং, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা সবারই৷
ট্রাম্প সম্পর্কে আশাবাদী জয়শঙ্করের বক্তব্য, ‘ট্রাম্পের শপথগ্রহণ একটি বিশেষ ঘটনা। আশা করা যায়, বিশ্ব ব্যবস্থায় এর বৃহত্তর ভূমিকা থাকবে।’ দিল্লির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মন্থনের একটা ফলাফল হল ট্রাম্পের ফিরে আসা। বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘এই প্রক্রিয়ার অনেক স্তর রয়েছে, অনেক মাত্রা রয়েছে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন করে ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। যুদ্ধ, অতিমারি, পরিবেশ দূষণ সময়কে অস্থির করেছে। আবার রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়াতে প্রযুক্তিও তার ন্যায্য ভূমিকা পালন করেছে।’
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার বিষয়টি সম্পর্কে জয়শঙ্কর মনে করছেন,’আমেরিকার বিদেশনীতির ভরকেন্দ্র এবার বদলাবে। এ বার প্রতিযোগিতা বাড়বে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।’