ভারতের বস্ত্র রপ্তানি খাতে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মতো ভারতও আন্তর্জাতিক বাজারে বস্ত্র পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, ‘ভারতের বস্ত্রশিল্প বিশ্ববাজারে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়বে। লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’
প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উন্নত দেশের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শুল্কছাড় সুবিধা পেয়ে এসেছে। সেই সুবিধা পাওয়ার ফলে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই ধরনের সুযোগ ভারত পেলে দেশীয় শিল্পে বড়সড় উত্থান দেখবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। মন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতীয় উৎপাদকরা সমান সুযোগ পাক। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ন্যায্য পরিবেশ দরকার।’
বস্ত্রশিল্প ভারতের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থানমুখী ক্ষেত্র। তুলা, সুতা, কাপড় থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক— সব মিলিয়ে এই শিল্প দেশের রপ্তানিতে বড় ভূমিকা রাখে। শিল্পমহলের বক্তব্য, শুল্কমুক্ত সুবিধা মিললে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদকরা বেশি উপকৃত হবেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বৈদেশিক মুদ্রায় আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এখন নজর রয়েছে, কবে থেকে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হবে এবং কোন কোন দেশে তা প্রযোজ্য হবে।