সামরিক শক্তি আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারত। ইজরায়েলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ‘আয়রন ডোম’, ‘আয়রন বিম’ এবং ‘গোল্ডেন হরাইজন’-এর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রযুক্তি পেতে চলেছে দেশ। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
দু’দিনের সফরে বুধবার ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরে ভারত ও ইজরায়েল-এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পথে দুই দেশ। এই চুক্তির আওতায় শুধু অস্ত্র নয়, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও ভারতের হাতে তুলে দেবে ইজরায়েল।
ইজরায়েলের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে। একইসঙ্গে অস্ত্র ও প্রযুক্তি আদানপ্রদানের পথও সুগম হবে। ইজরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ভারত ও ইজরায়েলের মতো আস্থাবান দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত পেতে পারে ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি একাধিক উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডেভিড স্লিং’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশি ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থাও ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, যা শত্রুপক্ষের দূরপাল্লার রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ ক্ষেপণাস্ত্র। এই দূরপাল্লার অত্যাধুনিক অস্ত্র যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং প্রায় ১০০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানতে পারে। এমনকি মাটির নিচে থাকা শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত ঘাঁটিকেও ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রের।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম, যা ভারতের বর্তমান ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের থেকেও বেশি উন্নত। ফলে এই প্রযুক্তি হাতে পেলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়বে।