হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই এলাকায় ভারতীয় নাবিক-সহ একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এই নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় দ্বিতীয়বার মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জেসন মিকসকে তলব করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া জোরালো নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতার সমালোচনা করে সরাসরি সমালোচনা করে বলেন, আপস করায় বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে জানান, বিদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ওমান উপসাগরের কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে মাউন্ট সেত্তেবেলো এবং এমটি জলবীর অন্যতম। এই জাহাজগুলিতে মোটামুটি ২০ থেকে ২৮ জনের মতো নাবিক ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর কিছু নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর জানা যায়। নিহত হন চিফ ইঞ্জিনিয়ার পত্নালা সুরেশ, ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরান থেকে তেল পরিবহণের অভিযোগে একটি জাহাজে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেই ওই জাহাজ চলছিল। এই স্বীকারোক্তির পরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক ও অসামরিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর দাবি তোলে।
এই ঘটনার জেরে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে বর্তমানে বহু ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন, যাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় প্রশাসন বিভিন্ন সংস্থা ও বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই পুরো ঘটনায় ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। এদিকে রাহুলের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধীরা বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলেও, শাসকপক্ষের দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তাের আওতায় রয়েছে। তাই এই নিয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।