তবে বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সব কর্মী সমান সুবিধা পাবেন না। এওনের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার কাছে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বেশি বেতনের আশায় এক সংস্থা ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় কর্মীদের ধরে রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে যাঁদের দক্ষতা সংস্থার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
কোন তিন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বেতনবৃদ্ধির সম্ভাবনা?
এওনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী বছর তিনটি শিল্পক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতনবৃদ্ধি হতে পারে।
-
অ-ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থা (এনবিএফসি): ঋণদান-সহ বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী এই সংস্থাগুলিতে বেতন বাড়তে পারে ১০.১ শতাংশ।
-
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্র: এই শিল্পে বেতনবৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৯.৯ শতাংশ।
-
আবাসন ক্ষেত্র: বাড়ি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি সংক্রান্ত ব্যবসায় বেতন বাড়তে পারে ৯.৮ শতাংশ।
এওনের ট্যালেন্ট সলিউশনস ইন্ডিয়ার পার্টনার তথা রিওয়ার্ডস কনসাল্টিং বিভাগের প্রধান রূপাঙ্ক চৌধুরীর বক্তব্য, সংস্থাগুলি এখন আর সব কর্মীর বেতন একই হারে বাড়ানোর পথে হাঁটছে না। বরং কর্মীদের দক্ষতা, কাজের গুরুত্ব এবং তাঁদের ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা বিচার করে বেতনবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যে কর্মীদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন, তাঁদের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত সংস্থাগুলি।
অন্য দিকে, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রদত্ত তথ্যে ছাঁটাইয়ের হার ২০২৪ সালে ১৭.১ শতাংশ, ২০২৫ সালে ১৬.২ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ১৮ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের ভিত্তি ও পরিমাপের পদ্ধতি স্পষ্ট নয়। তাই এগুলিকে নিশ্চিত জাতীয় ছাঁটাইয়ের হার হিসেবে দেখার আগে মূল রিপোর্টের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, এক দিকে বেতনবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও অন্য দিকে দক্ষতা বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করা চাকরিজীবীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।