বিরল খনিজে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে পারে ভারত

বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে চিনের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে একটি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু শক্তি যন্ত্র, আধুনিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে এই খনিজগুলির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণ ও পৃথকীকরণে বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ চিনের দখলে। পাশাপাশি চুম্বক তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের দখল প্রায় ৯৩ শতাংশ। এই অবস্থানকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে চিন। অতীতে সমুদ্র সংক্রান্ত বিবাদের সময় জাপানের ক্ষেত্রে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা এই প্রভাব দেখিয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে ব্যস্ত। ভারত এই ক্ষেত্রে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ এই মুহূর্তে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বিরল খনিজ ভাণ্ডার ভারতের কাছে রয়েছে। পাশাপাশি এই খনিজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও ভারতের হাতে রয়েছে।


তবে বাস্তবে এখনও এই ক্ষেত্রে ভারত পিছিয়ে। দেশের উৎপাদন সীমিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সংস্থার উপর নির্ভরশীল। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। এর ফলে পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। সম্পদের পুরো সুবিধা নেওয়াও সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অভিযান’ শুরু করেছে কেন্দ্র। এর মাধ্যমে খনিজ অনুসন্ধান, প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও এই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ভারত একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গেও এই ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশে এই ধরনের খনিজ মজুত থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়নি। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ভারত যদি নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করে, তাহলে শুধু চিনের উপর নির্ভরতা কমবে না, বরং গোটা অঞ্চলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাড়বে।