পাকিস্তানকে সাড়াঁশি চাপ ভারতের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতের প্রমাণ পাওয়ার পর ভারত একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে দেশ থেকে প্রথমেই সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ, পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত রকম ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ করার পাশাপাশি সিন্ধুচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের কুকীর্তির জবাব দিতে এবার ভারত জোড়া পদক্ষেপের পথে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোনঠাসা করতে প্রস্তুতি শুরু করল ভারত। একদিকে, আইএমএফ থেকে পাকিস্তান যে বিপুল অঙ্কের অনুদান পায় সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলবে দিল্লি। অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদের উপর নজরদারি সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফটিএএফ) ‘ধূসর তালিকা’য় পাকিস্তানকে আবার ফেরানোর দাবি তুলবে ভারত।

পহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানকে সবদিক থেকে ঘিরতে চাইছে ভারত। সেই পথে হেঁটেই এবার পাকিস্তানের আর্থিক স্রোত বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারে অভিযোগের ভাবনা ভারতের। পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের শর্ত ভারতের জন্য এই মুহূর্তে ভীষণ গুরত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত বছর পাকিস্তানের জন্য ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যে সাহায্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার তাতে স্পষ্টভাবে শর্ত ছিল, একটি পয়সাও অপ্রয়োজনে খরচ করা যাবে না। আয়করের মাধ্যমে জিডিপি বাড়াতে হবে দেশের। পাশাপাশি কৃষি, রিয়েল স্টেট মতো একাধিক ক্ষেত্রে কর চাপাতে হবে। অগাধ ছাড়ের পরিমাণ কমাতে হবে সরকারকে। যাবতীয় শর্ত মেনেই এই সাহায্য গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু দেখা গিয়েছে সেই অর্থ জঙ্গি খাতে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। আইএমএফের এই আর্থিক সাহায্যের অপব্যবহারকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে সরব হবে দিল্লি।
ভারতের দাবি, আইএমএফের সাহায্য হিসাবে পাকিস্তানকে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে সেটা আসলে ব্যবহার হচ্ছে জঙ্গিদের জন্য। সন্ত্রাসবাদী হামলা থেকে শুরু করে মানুষ মারার জঘন্য ফন্দি আঁটা— এইসব ক্ষেত্রে আইএমএফের অর্থ ব্যবহার করছে পাকিস্তান, এমনটাই দাবি করবে ভারত। পাকিস্তানের জন্য আইএমএফের সাহায্যের তীব্র বিরোধিতাও করবে দিল্লি।

অর্থের অপব্যবহারের পাশাপাশি এফএটিএফের ‘ধূসর তালিকা’য় আবার পাকিস্তানকে ফেরানোর দাবি তুলবে ভারত। দীর্ঘ চার বছর পর ২০২২ সালে ধূসর তালিকা থেকে বাদ পড়ে পাকিস্তান। সেসময়ে জানানো হয়েছিল, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক ও অন্যান্য মদত বন্ধ করতে পাকিস্তানকে ৩৪টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ওই শর্তের মধ্যে ২৭টি ছিল সন্ত্রাসে আর্থিক মদত সংক্রান্ত এবং সাতটি বেআইনি অর্থ পাচারের বিষয়ে। সেই অ্যাকশন প্ল্যানের সব ক’টি শর্তই নাকি ইসলামাবাদ পূরণ করেছে! কিন্তু পহেলগাম হামলায় বারবার পাকিস্তানের যোগ মিলছে। তাই এফএটিএফের কাছে পাকিস্তানকে ফের ধূসর তালিকায় রাখার আবেদন করবে ভারত।