দেশজুড়ে পাইপের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতির কথা জানাল কেন্দ্র সরকার। এখনও পর্যন্ত ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার পরিবারকে পাইপে গ্যাস সংযোগে সরবরাহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২ লক্ষ ৬৮ হাজার সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে মোট সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ ৬৪ হাজার।
পেট্রোলিয়াম দপ্তর জানিয়েছে, নতুন সংযোগের জন্য ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার গ্রাহক নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই পরিষেবার সুবিধা পেয়ে বহু মানুষ পুরনো গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ ছেড়ে দিচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সিলিন্ডার সংযোগ ত্যাগ করেছেন। দপ্তর সূত্রের খবর, গত এপ্রিল মাস থেকে ছোট আকারের সিলিন্ডারের ব্যবহারও বেড়েছে। এই সময়ে ৫ কেজি গ্যাস ধারণের ক্ষমতাসম্পন্ন সিলিন্ডারের বিক্রি ছুঁয়েছে প্রায় লক্ষাধিক।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার প্রচার শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত মাস থেকে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক গ্যাস বিক্রি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সারের কারখানাগুলিতে গ্যাস সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে, যাতে উৎপাদনে কোনও ঘাটতি না থাকে। দেশের সব শোধনাগারগুলি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে কাজ করছে। পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুতও যথেষ্ট রয়েছে। দেশের সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রি স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোথাও গুজবের কারণে হঠাৎ ভিড় দেখা গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। দপ্তরের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘জ্বালানির দাম বাড়েনি। বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’ দেশীয় শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন শোধনাগার থেকে রাসায়নিক, ওষুধ ও রং শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করা হচ্ছে।