এই চুক্তির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো এর আঞ্চলিক প্রভাব। পশ্চিমবঙ্গের বহু পণ্য এখন নতুন বাজারে আরও সহজে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে দার্জিলিং চা, কলকাতার চর্মজাত পণ্য, হাওড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, মালদহের আম, পাটজাত পণ্য, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক খাদ্য। ফলে রাজ্যের ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিনির্ভর উৎপাদন সরাসরি লাভবান হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে চাপের কারণে হরমুজ প্রণালীতে পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য ওমান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বা জিটিআরআইয়ের মতে, ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে দেশটির একাধিক বন্দর, যেমন সালালাহ ও দুকুম—হরমুজ প্রণালীর বাইরে অবস্থিত। ফলে সঙ্কটে ঘেরা জলপথ এড়িয়ে সরাসরি আরব সাগর হয়ে বাণিজ্য চালানো সম্ভব হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিনই মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাই থেকে কৃষিপণ্য, রত্ন ও গয়না-সহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ১০টি চালান ওমানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।সরকার ও বাণিজ্য মহলের আশা, এই চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি শিল্প, কৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র শিল্প ও কারিগরি উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ওমানের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি বাড়বে যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।