ইরানের সমুদ্রবন্দরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে ভারত

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আমেরিকা ইরানকে জব্দ করার জন্য নিতে চলেছে এমন একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ যার ফলে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারতের ক্ষেত্রে। ১০ বছরের চুক্তিতে চাবাহার সমুদ্রবন্দর ইরানের সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করছে ভারত। সম্প্রতি ইরানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে চাবাহার সমুদ্রবন্দরে অন্য দেশগুলিকে দেওয়া কিছু শুল্ক ছাড় খারিজ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমেরিকার তরফ থেকে। ওই ছাড় প্রত্যাহার না করে চাবাহার বন্দর ব্যবহার করলে ভারত এবং অন্যান্য দেশকে আমেরিকাকে পেনাল্টি দিতে হবে। ভারত যেহেতু এই বন্দরটিকে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করে সেক্ষেত্রে কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে ভারতের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য চাবাহার বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরিমানা ধার্য করতে চলেছে। এই জরিমানা চালু হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। মার্কিন বিদেশ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ইরানের অনৈতিক এবং অবৈধ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। আমেরিকার সেনাবাহিনী গত জুন মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায় তাদের পরমাণু কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশে। আমেরিকা দাবি করে যে, ইরান গোপনে পারনাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত করছে। ইরান পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চায় আগামী দিনে। এই ব্যাপারটিতে আপত্তি রয়েছে আমেরিকার। পরমাণু বিবাদের কারণে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সম্প্রতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে গিয়েছে।

পাকিস্তানকে এড়িয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি এবং আফগানিস্তানে পৌঁছানোর জন্য ভারতের কাছে চাবাহার বন্দর ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ২০০৩ সালে ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছিল এই বন্দরটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর। ২০২৪ সালের ১৩ মে ভারত ইরানের বন্দর নৌ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তিতে স্থির হয় যে, ভারত ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে চাবাহার বন্দর পরিচালনা করবে।


এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারত পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া এবং ইওরোপের দেশগুলির সঙ্গে জলপথে ব্যবসাবাণিজ্য চালাতে চায়। চাবাহার বন্দর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পাকিস্তানের গদর বন্দর। এই বন্দর পরিচালনা করে চিন। ভারত চাবাহার বন্দরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারালে চিনের আধিপত্য আরব সাগরের উপর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন জরিমানা চাপানো হলে ভারত ব্যবসাক্ষেত্রে
ক্ষতিগ্রস্ত হবে।