ভারতই বিনিয়ােগের সবচেয়ে ভালাে জায়গা, রিয়াদে বললেন মােদি

রিয়াদে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। (Photo: Twittter @narendramodi)

সৌদি আরবের রিয়াদে আর্থিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি বলেছেন, ভারত হচ্ছে বিনিয়ােগের সবচেয়ে উপযুক্ত দেশ। কারণ ভারতে সবচেয়ে বড় সুবিধে হচ্ছে বিনিয়ােগের জন্য উন্নতমানের পরিকাঠামাের সুবিধা। তাছাড়া এখানে বিনিয়ােগের জন্য অন্যান্য সব সুবিধে উপলব্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সৌদি আরব সফরে দু’দেশই একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে জ্বালানি, গ্যাস এবং অসামরিক বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে। দু’দেশের মধ্যে কৌশলী অংশীদারী কাউন্সিলের মাধ্যমে একাধিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হবে তার জন্য দু’বছর অন্তর বৈঠকে বসবে কাউন্সিল। এই কাউন্সিলের মাথায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি এবং সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান।

গত কয়েক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক খুবই মধুর। গত মাসে সৌদি আরবের তরফে ঘােষণা করা হয়েছিল যে তারা জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যালস, পরিকাঠামাে, কৃষিক্ষেত্রে একশ বিলিয়ন ডলার লগ্নি করতে আগ্রহী। ২০১৭-১৮ সালে ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২৭.৪৮ বিলিয়ন ডলার। পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সৌদি আরব এখন ভারতের চতুর্থ বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী মােদির সৌদি আরব সফরকালে তাঁকে সে দেশের সবচেয়ে বড় অসামরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। মােদিকে এই সম্মান দিয়েছিলেন সৌদির রাজা সলমন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান ভারত সফরে এসেছিলেন। ভারত এখন পৃথিবীর তৃতীয় দেশ যারা ৮৩ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে থাকে। সৌদি আরব ইরাকের পর দ্বিতীয় দেশ যারা ভারতকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি রফতানি করে

২০১৮-১৯ সালে ভারত বিদেশ থেকে ২০৭.৩ মিলিয়ন টন অপরিশােধিত তেল আমদানি করেছিল। এর মধ্যে ৪০.৩৩ মিলিয়ন টন অপরিশােধিত তেল ভারত আমদানি করেছিল সৌদি আরব থেকে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি আরব দেশগুলির আর্থিক সম্মেলনে যােগ দিতে এদিন সকালে রিয়াদে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য পেশ করবেন। সকালেই তিনি জর্ডনের রাজা আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া সৌদির রাজা সলমন ও যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠকে মিলিত হন।

মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে তৈল শােধনাগার স্থাপনের জন্য সৌদি আরবের বৃহৎ তেল সংস্থা আরামকো, ইউএই-এর আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি এবং ভারতের তৈল সংস্থাগুলি যৌথভাবে বিনিয়ােগ করবে। সৌদি আরব ভারতে বিদ্যুৎ, তৈল শােধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল, পরিকাঠামাে, কৃষি, খনিজ আকরিক ও খনি উৎপাদনে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়ােগের পরিকল্পনা করেছে।

২০১৭-১৮ সালে ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিনিয়ােগের পরিমাণ ছিল ২৭.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি এনিয়ে উপসাগরীয় রাজধানীতে দ্বিতীয়বার গেলেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রথম সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেবার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। এর পর সৌদির যুবরাজ চলতি বর্ষের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরে আসেন।

আর্থিক সম্মেলনে যােগদানের জন্য রিয়াদ যাত্রার প্রাক্কালে নরেন্দ্র মােদি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জানান, সৌদি আরব ভারতের জ্বালানি তেলের চাহিদার সবথেকে নির্ভরযােগ্য যােগানদার। এছাড়া, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং পারস্পরিক যােগাযােগের ক্ষেত্রে দুই দেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চলতি সময়ে দুই দেশের মধ্যে তৈল ও গ্যাস, নবীকরণযােগ্য শক্তি এবং অসামরিক বিমান চলাচলের মতাে বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে সংযােগের সেতু হিসেবে একটি কমিটি গঠিত হবে এবং এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে প্রতি দুই বছর অন্তর আলােচনায় মিলিত হবে। এই কমিটির মাথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি ও সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন।