বিষাক্ত বাতাসে একেবারে হাঁসফাঁস করছে দিল্লি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। এবার সেই বিধি লঙ্ঘনেরই অভিযোগ উঠল বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, অখিলেশ যাদব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা চলো দিল্লি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যে ছাদখোলা গাড়িতে রামলীলা ময়দানে পৌঁছন, সেটি বিএস-৩ (BS-III) মানের ডিজেলচালিত গাড়ি বলে অভিযোগ। ফলে দিল্লির দূষণবিধি লঙ্ঘন করেই ওই গাড়ি রাজধানীতে প্রবেশ করেছিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গাড়িটির নম্বর প্লেট ছিল RJ25 PA 2151। একটি অনলাইন গাড়ির তথ্য সংক্রান্ত অ্যাপে থাকা বিবরণ অনুযায়ী, গাড়িটি হল বিএস-৩ ডিজেলচালিত মহিন্দ্রা মিনিবাস। উল্লেখ্য, রবিবার থেকে দিল্লি সরকারের শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লির বাইরে নথিভুক্ত বিএস-৬ (BS-VI) মানের নীচে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের ব্যবহৃত গাড়িটি সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। মিছিলে ব্যবহৃত আরও কয়েকটি গাড়িও দূষণবিধি ভেঙেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনী তালিকায় কথিত অনিয়ম ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী জোট।
সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা দিল্লির বিভিন্ন জেলায় বলবৎ রয়েছে। যন্তর মন্তর এবং নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের মতো কয়েকটি জায়গায় জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের দাবি, সমাবেশে ১০ লক্ষ পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। যদিও পুলিশের অনুমান, রামলীলা ময়দানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জমায়েত করতে পারেন। ফাঁকা অবস্থায় মাঠটির ধারণক্ষমতা ৪৫-৫০ হাজার। তবে চেয়ার, মঞ্চ ও যাতায়াতের নির্দিষ্ট পথ তৈরি হলে সেই সংখ্যা কমে ৩০-৪০ হাজারে দাঁড়াতে পারে।