শত্রুপক্ষের যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করতে হাতে করে ছোড়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আর ব্যয় সাপেক্ষ পথে নয়। সহজ পথেই নিখুঁত ভাবে ধ্বংস হবে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান। কাঁধে বসিয়েই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে জওয়ানরা। দেশীয় প্রযুক্তির এমনই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতা হল, ছয় কিলোমিটার দূরত্বে থাকা ড্রোন বা যুদ্ধবিমানকে অনায়াসে ধ্বংস বা প্রতিরোধ করতে পারবে।

পহেলগাম কাণ্ডের পর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈসারন উপত্যকায় মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অস্ত্রভান্ডারের জন্য ৪৮টি লঞ্চার, ৪৮টি রাত্রিকালীন অত্যাধুনিক চশমা, ৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য একটি কেন্দ্র গড়ার দরপত্র হেঁকেছে । আগামী ২০ মে-র মধ্যে ইচ্ছুক সংস্থাকে তাদের দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘আকাশপথ দিয়ে ধেয়ে আসা সব ধরনের হুমকি প্রতিরোধের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে “ম্যান পোর্টেবল সিস্টেমের” ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতেই এই উদ্যোগ। সেজন্য দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

ভারত প্রথম থেকেই পহেলগাঁও হামলার জন্য পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, এই জঙ্গি হামলার ঘটনার নেপথ্যে তাদের কোনও ভূমিকা নেই। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। সীমান্ত বন্ধ, ভিসা বাতিল থেকে শুরু করে সিন্ধু জল-বণ্টন চুক্তি স্থগিত। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যেই বাণিজ্যও বন্ধ রয়েছে। তবে ভারত হোক বা পাকিস্তান— কোনও দেশই সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। যদিও দুই দেশই শক্তি প্রদর্শন করছে। কখনও আরব সাগরে আবার কখনও সীমান্তে! সেই আবহেই নতুন অস্ত্র কিনতে আগ্রহী ভারত।


তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রই ঠিক কী কী বৈশিষ্ট্য থাকবে? এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম)-এ অবশ্যই ‘অ্যান্টি-জ্যামিং’ বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। অর্থাৎ যদি কোথাও নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা থাকে, তবে সেই সব জায়গাতেও যাতে নতুন ব্যবস্থা কাজ করতে পারে, সে দিকে জোর দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। সমতল হোক বা মরুভূমি কিংবা সাড়ে চার হাজার মিটার উঁচু এলাকা— সব জায়গা থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র যাতে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় সেনা বাহিনী যে প্রথম ব্যবহার করছে এমন নয়। পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সামরিক লড়াইয়ের সময়েও এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ২০২৩ সালের শেষের দিকে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন অস্ত্র-চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। সেই চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের শেষের দিকে স্বল্পপাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী অস্ত্র পাঠিয়েছিল পুতিনের দেশ রাশিয়া। ফলস্বরূপ ভারত পেয়েছিল সেই নতুন অস্ত্র, যার পোশাকি নাম ‘ইগলা এস’। প্রথম দফায় রাশিয়ায় তৈরি ২৪টি ‘ইগলা-এস’ ভারতে আসে। সেই সঙ্গে আসে তার সঙ্গে ব্যবহার করার মতো ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রও। কিন্তু এই ধরনের আরও স্বল্পপাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চাইছে ভারতীয় সেনা! তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকারী সংস্থার কাছে দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।