প্রথমে ‘অর্ণব’। তারপরে ‘মুরাসু’। পর পর দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করছে ভারত। এই দুই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য ভারত বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কবার্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)। ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এমনটাই জানিয়েছেন ডব্লিউএমও-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো।
সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, আবহাওয়ার নির্ভুল পূর্বাভাস ও সময়মতো সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অনেক দেশের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও খুব জরুরি। ভারত সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে দেখিয়েছে।
ডব্লিউএমও-র মহাসচিব এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। কয়েক দিন আগেই ওই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পূর্বাভাস মেনে সমস্ত কাজ করেছে ভারত। অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগাম সতর্কবার্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্য প্রশংসনীয় বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: ঘণ্টায় ২৪৯ কিমি বেগে ছুটবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন, ৫৫৭ যাত্রীর জন্য থাকছে ৮ কামরা
ভারতের এই সাফল্য রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ উদ্যোগেরও বাস্তব প্রয়োগ। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া। যাতে বিপর্যয় ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আর ভারত সেই কাজ করেছে। তাই এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির কাছে শিক্ষণীয় বলে তিনি মনে করেন।