পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে ভারতের বিমান পরিষেবায় ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি উড়ান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি। এতে যাত্রী পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ দপ্তরের যুগ্ম সচিব আসাংবা চুবা আও জানিয়েছেন, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০টি উড়ান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চলাচল করত, এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০-এর মধ্যে। এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রসঙ্গত, ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালায়। এরপরই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা বাড়তে থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। এর আগে সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েক হাজার উড়ান বাতিল হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সেই সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘যেখানে আকাশপথই বন্ধ, সেখানে উড়ান চালানো বিপজ্জনক।’ তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বহু যাত্রী যাতায়াত করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ লক্ষের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আকাশপথ খুলে গেলে তবেই ধীরে ধীরে উড়ান পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যে ভারতের মতো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলছে, এই ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।