ঘুরপথে আসছে তেল, জ্বালানির অভাব হবে না, আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলেও বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করে দেশের তেল ও গ্যাস আমদানি স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। সরকারের দাবি, বিশ্বের প্রায় চল্লিশটি দেশ থেকে ঘুরপথে জ্বালানি আমদানি করায় আপাতত দেশে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা নেই।

বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ায় ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে ‘এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না’। এই ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি আমদানির নতুন পথ তৈরি করা হয়েছে। ফলে কোনও একটি সমুদ্রপথ বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।


সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমানে ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ষাট শতাংশ তেল বিকল্প পথ ব্যবহার করে দেশে আসছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা অনেকটাই কমেছে। কেন্দ্রের মতে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমদানি বাড়ানোর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত যে দেশগুলি থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ব্রাজিল, ব্রুনেই, কানাডা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, মিশর, ঘানা, গ্রিস, গিনি, ইরাক, ইজরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, কাতার, সেনেগাল, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রিটেন, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা-সহ একাধিক দেশ।

কেন্দ্রের মতে, এই বহুমুখী আমদানি নীতির ফলে জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লেও দেশের জ্বালানি বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলেই দাবি সরকারের।