ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক এমটি ভ্যালিয়্যান্ট রোর নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা ১৬ জন ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় হল ভারত। কনসুলার অ্যাকসেস দেওয়ার জন্য ইরানের উপর কূটনৈতিক স্তরে জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছে কেন্দ্র সরকার। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত নাবিকদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ইরানের জলসীমায় জাহাজটি আটক হওয়ার পর থেকেই দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে নাবিকদের শারীরিক অবস্থা, খাদ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত জাহাজে থাকা ১৬ জন ভারতীয় নাবিকের সঙ্গে সরাসরি কনসুলার বৈঠকের অনুমতি মেলেনি বলেই জানা যাচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আটক নাবিকদের সঙ্গে কনসুলার প্রতিনিধিদের দেখা করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার মেনে চলার জন্য ইরানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নাবিকদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চেয়েছে ভারত। কেন্দ্রের বক্তব্য, ‘আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কনসুলার অ্যাকসেস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে চাপ বজায় রাখব।’
এদিকে নাবিকদের পরিবারগুলিও গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কোনও সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবারের সদস্যদের আশ্বাস দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ইরান অঞ্চলে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এমন ঘটনা কূটনৈতিক ভাবে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। সেই কারণেই ভারত চায় দ্রুত কনসুলার অ্যাকসেস পেয়ে নাবিকদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে।
কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজন হলে আরও উচ্চস্তরে বিষয়টি তোলা হবে। নাবিকদের নিরাপদ মুক্তি ও দেশে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে।