ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত’ আচরণে সতর্ক ভারত, তাই ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর চায়নি দিল্লি 

Photo: ANI

ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে আপত্তি ছিল না ভারতের। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে চায়নি দিল্লি। এমনই দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর দাবি, ভারতের এই অবস্থানের কথা ট্রাম্পকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গোরের এই দাবির পর এবার সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত আচরণ’ নিয়ে সতর্ক থাকার কারণেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এক সংবাদ সংস্থা সূত্রে গোরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। চলতি বছরের ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বাঁয়ে জি ৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-ট্রাম্পের পার্শ্ববৈঠক হয়। সেই বৈঠকের নেপথ্যের ঘটনা শনিবার ‘ইকনমিক টাইমস’-এর ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম’-এ তুলে ধরেন গোর।

গোরের দাবি, বৈঠকের আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক চেয়েছিল সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরা উপস্থিত থাকুক, কিন্তু কোনও পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক বৈঠক বা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায়নি ভারত। কিন্তু বৈঠকের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মোদী ও ট্রাম্প কয়েক মিনিট নিজেদের বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকদের দিকে ফিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানতে চান, কারও কোনও প্রশ্ন আছে কি না। এরপর একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে ওই প্রশ্নোত্তর পর্ব। মোদী অবশ্য সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে জানান গোর।


মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের পর সরকারি সূত্র এক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী বিদেশি নেতারা তাঁর ‘অপ্রত্যাশিত আচরণ’ নিয়ে সতর্ক থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তার উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই ভারত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন বা প্রশ্নোত্তর এড়াতে চেয়েছিল বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন: ওড়িশার উপকূলের কাছে ডুবল পানামার পতাকাবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

সরকারি সূত্রে খবর, কোনও ভিভিআইপি বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে নেতাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ভারতও এক্ষেত্রে তার প্রচলিত রীতির কথাই জানিয়েছিল। ওই বৈঠকে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, ভারত অন্য কোনও দেশ দ্বারা আক্রান্ত হলে আমেরিকা দিল্লির পাশে দাঁড়াবে। তবে মোদীর পরিবর্তে অন্য কেউ নেতা হলে তিনি এই সাহায্যের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।