রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামোয় জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ভারত ও ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জোর সওয়াল করলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক করে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
রাষ্ট্রপতি লুলা বলেন, ‘গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি এবং জাপান একসঙ্গে কাজ করছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে। এই চারটি দেশ মিলে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছে, যারা পরস্পরকে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রসঙ্ঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হলে এই সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রসঙ্ঘ তার কার্যক্ষমতা হারাবে। ভারত ও ব্রাজিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও প্রাসঙ্গিক ও কার্যক্ষম হবে।’
ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু মোদীর আমন্ত্রণে আবার ভারতে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারত ও ব্রাজিল শুধু বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৃষিক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’
দুই দেশের বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যও স্থির করা হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের নেতারা বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার বিষয়েও মতৈক্য হয়েছে। এই সফরে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একাধিক মন্ত্রী এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরাও এসেছেন। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, খনিজ সম্পদ, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের এই স্পষ্ট সমর্থন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের ক্ষেত্রে ভারতের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়াবে।